Home / Uncategorized / আসার কথা সরিষার বীজ, বন্দরে এলো ৪২ টন পপির বীজ

আসার কথা সরিষার বীজ, বন্দরে এলো ৪২ টন পপির বীজ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মালয়েশিয়া থেকে সরিষা বীজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা চালানে ৪২ টন আফিম তৈরির উপকরণ পপি বীজ পেয়েছে কাস্টমসের কর্মকর্তারা। কম শুল্কের পণ্যে ঘোষণার আড়ালে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। সন্দেহ থাকায় পণ্যটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় এমন প্রতারণার সন্ধান পায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন এন্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা। ওই চালানে কয়েক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করায় সংশ্লিষ্টদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জানা গেছে, পুরান ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজমিন ট্রেড সেন্টার সরিষা বীজ ঘোষণায় মালয়েশিয়া থেকে দুই কন্টেইনার পণ্য আমদানি করে। আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল পণ্য চালানটি খালাসের জন্য এ দপ্তরে ১৮ এপ্রিল বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে এবং ঘোষিত পণ্য সরিষা বীজের শুল্ক বাবদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৭ টাকা পরিশোধ করে। শুল্ক-করাদি পরিশোধ শেষে পণ্য চালানটি খালাস গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে সিএন্ডএফ এজেন্ট।

এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের অডিট, ইনভেস্টিগেশন এন্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম। পরবর্তীতে শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষিত ৫৪ টন সরিষা বীজের স্থলে ১২ টন সরিষা বীজ এবং ৪২ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ (পোস্তা দানা) পাওয়া যায়। একই রকম লেখা ও একই রঙের বস্তায় কনটেইনারের সামনের অংশে সরিষা বীজ ও পেছনের দিকে পপি বীজ পাওয়া যায়।

পণ্যের বর্ণনা সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পণ্যের নমুনা ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে পাওয়া নমুনাকে পপি বীজ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেয় সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। আফিমসহ বিভিন্ন রকমের মাদক তৈরিতে পপি বীজ ব্যবহার করা হয় বলে তা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী ৪২ টন পপি বীজের বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা হলেও সরিষা বীজের মূল্য বাবদ এলসি’র মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ পণ্যের অবশিষ্ট মূল্য অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে পরিশোধ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, অসত্য ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করায় সংশ্লিষ্টদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এছাড়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কাস্টম হাউসের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট।