Home / Uncategorized / নগরীর চান্দগাঁওয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ২ পুলিশের সোর্সসহ আটক ৮

নগরীর চান্দগাঁওয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ২ পুলিশের সোর্সসহ আটক ৮

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় এক গৃহবধু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এঘটনায় জড়িত ৮ জনকে ইতোমধ্যে পুলিশ আটক করেছে।   

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ২ টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থেকে ফেরার পথে মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই তরুণীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে নামে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় কুমার বসাক বলেন, গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

নগরের চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় ‘গণধর্ষণের’ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা ওই এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে অপর্কম করতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া জাহাঙ্গীর ও সুমনসহ অন্যরা মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতো বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় কাদের নামের একজন বলেন, এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সুমন, জাহাঙ্গীরসহ অন্যরা। তারা রাতের বেলা সিএনজি অটোরিকশা চালক হিসেবে কাজ করে। এসবের আড়ালে মূলত তারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘গণধর্ষণের’ ঘটনায় আটজনকে আটকের বিষয়টি জানায় পুলিশ।

‘ধর্ষণের’ ঘটনায় আটক আটজন হলেন- জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), মো. ইউসুফ (৩২), মো. রিপন (২৭), মো. সুজন (২৪), দেবু বড়ুয়া প্রকাশ জোবায়ের হোসেন (৩১) (নও মুসলিম), মো. শাহেদ (২৪), রিন্টু দত্ত প্রকাশ বিপ্লব (৩০) ও মনোয়ারা বেগম প্রকাশ লেবুর মা (৫৫)। এদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম ধর্ষণে সহায়তাকারী বলে পুলিশ জানালেও স্থানীয়রা তাকে পতিতা ব্যবসায়ী হিসেবে চিনে।

ব্রিফিংয়ে উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক বলেন, এক নারী রাঙ্গুনিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসছিলেন। কাপ্তাই রাস্তার মাথা সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে রিকশা নিয়ে তার বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় জাহাঙ্গীরসহ আসামিরা ওই নারীকে রিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

বিজয় বসাক বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করে। এদের মধে এক নারীও রয়েছেন যিনি ধর্ষণে সহায়তাকারী।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেস বড়ুয়া বলেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারী পূর্ব পরিচয় রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পনা কী না তা তদন্তে জানা যাবে।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা ওই নারীকে ধর্ষণের সময় মনোয়ারা বেগম প্রকাশ লেবুর মা তাদের সহযোগিতা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সুমনসহ জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) নাদিরা নুর, সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রান তালুকদার, সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) শহীদুল ইসলাম, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার।