ব্রেকিং নিউজ
Home / চট্টগ্রামে / ওয়াসার এমডি হিসেবে সাতবারের মতো নিয়োগ পেলেন ফজলুল্লাহ

ওয়াসার এমডি হিসেবে সাতবারের মতো নিয়োগ পেলেন ফজলুল্লাহ

Spread the love

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ফজলুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার আদেশ জারি হয়। তবে এই পুনঃনিয়োগ কার্যকর হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একেএম ফজলুল্লাহকে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে চতুর্থ দফায় আরও তিন বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় ওয়াসার বোর্ড সভায়। বোর্ড সভার এই সুপারিশ নিয়ে তখন অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। কোনো অনুসন্ধান কমিটি না করে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে একই ব্যক্তিকে বারবার নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবও। তবে সংশ্লিষ্ট সবারই অভিযোগ, ওয়াসার বোর্ড সদস্যদের প্রায় সবাই এমডির আজ্ঞাবহ। এমডি একেএম ফজলুল্লাহ চট্টগ্রাম ওয়াসায় কয়েক হাজার কোটি টাকার চলমান প্রকল্পে নিজের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে পাকাপোক্ত করতে অনুগত বোর্ড দিয়ে এই নিয়োগের সুপারিশ করিয়েছেন— রয়েছে এমন অভিযোগও। এমনকি ক্ষমতায় প্রতিদ্বন্দ্বী না রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কাউকে নিয়োগ দেননি।

১৯৪২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া ফজলুল্লাহ লাহোর থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন এবং ১৯৬৮ সালে ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। এরপর সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই এক বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসায় ফিরে আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড গঠন হলে তিনি প্রথম দফায় তিন মাসের জন্য এমডি হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরে আরো পাঁচ দফায় পুনর্নিয়োগ পেয়ে ৯ বছর ওই দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান তিনি।

চলতি অক্টোবরের ৩১ তারিখ এমডির তিন বছরের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরও তিন বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হল।

প্রায় ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে আছেন একেএম ফজলুল্লাহ। ছাত্রজীবনে জাসদের সক্রিয় কর্মী থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি সুদৃষ্টিতে আসেন। ওয়াসায় চাকরিকালে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ প্রকৌশলী শীর্ষ পদে বসে আত্মীয়স্বজনকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং বোর্ডকে উপেক্ষা করে প্রকল্প নিয়েছেন।

ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। পাইপলাইন বসানোর নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা তৈরি করা ছাড়াও ভুয়া বিল-ভাউচারে ওয়াসা কর্মচারীদের বেতনের চেয়ে বেশি ওভারটাইমের নামে হরিলুট, হাজার হাজার কোটি টাকার বড় বড় প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ নিরাপদ পানি সরবরাহের শিক্ষা নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশাল বহর উগান্ডায় পাঠিয়ে দেশব্যাপী সমালোচিত হন চট্টগ্রাম ওয়াসার এই এমডি।