Home / সাহিত্য / অধ্যাপক নীহার কুমার সরকারের ছোটদের রাজনীতি ও অর্থনীতি

অধ্যাপক নীহার কুমার সরকারের ছোটদের রাজনীতি ও অর্থনীতি

Spread the love

স্বাধীন প্রান্ত:   নীহার কুমার সরকার বইয়ের নাম “ছোটদের” দিলেও ছোটরা সাম্রাজ্যবাদ,সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ,পশ্চিমাবিশ্ব, উদারনৈতিক অর্থনীতি,খোলাবাজার নীতি,বিশ্বায়ন, বিশ্বব্যাংক কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা সমাজবাদে সোভিয়েট, চীন কতটা বুঝবে তাই বোঝার বিষয়।

না,যতটা কঠিন ভাবছেন ততটাই সহজবোধ্য বাক্যে অর্থনীতির আর রাজনীতির গুরুগম্ভীর বিষয়গুলো উদারণের সাহায্যে সংক্ষিপ্তাকারে বৈঠকি ঢঙে আলোচনায় মেতেছিলেন নীহার সরকার।

বেশ পড়াশোনা করে, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে লিখতে বসেছিলেন নীহার সরকার।পাঠক সাম্রাজ্যবাদ কিংবা পুঁজিবাদকে বয়কট করলে নানাবিধ উপকারিতা পাবেন মানছি । কিন্তু সমাজতন্ত্র কেন ১৯৯১ সালে এতো বড়ো ধাক্কা খেয়েছে তার কারণ যথাযথভাবে লিখেন নি নীহার সরকার।নিজে বলছেন অন্যান্য মতবাদ গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থ পূরণে কাজ করে, আবার নিজেই স্বীকার করছেন ১৯৯১ সালে সোভিয়েট ভাঙার অন্যতম কারণ সোভিয়েট নেতাদের ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধাণ্য। তাহলে নিজের যুক্তির সাথে তো নিজের কথাই সাংঘর্ষিক হয়ে গেল না?!

নিজে “ছুপা” রুশপন্থী হবার কারণে এড়িয়ে গেছেন চীনের সমাজতন্ত্রের যাত্রাকে।অথচ মাওবাদ বিশ্বে একদা বেশ সুদূরপ্রসারী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল -সেই বিষয়গুলো নিশ্চিতে বাদ দিয়ে সমাজতন্ত্র নিয়ে গটগটিয়ে আলোচনায় মাতলেন লেখক!

পৃথিবীর কোনো “ইজম” ই দোষত্রুটির ঊর্ধে নয়। কিন্তু যখন আপনি বিশেষ ইজম বাদে অন্যসব ইজমের ত্রুটিকে বারবার লাইমলাইটে আনবেন,তখন “ছোটপাঠক”(যাদের জন্য বইটি লেখা) তারাও বুঝতে পারবে লেখক পক্ষপাতিত্বের নূন্যতম ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন নি। অর্থাৎ, লেখকের নিজস্ব এজেন্ডা আছে বইটি লেখার পেছনে।

জ্বী,হা নীহার সরকার সুন্দর সুন্দর সবশব্দে, বাক্যে জটিলতর বিষয়আশয় আলোচনা সত্ত্বেয় সমাজতন্ত্র নিয়ে নিজের আদর্শিক বিশ্বাসকে কিছুটা নগ্নভাবে প্রকাশ না করলে এটি হতে পারতো অর্থনীতি আর রাজনীতি বোঝার একটি শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ।

আবারে, বলছি এই বই পড়ে অর্থশাস্ত্র আর রাজনীতির অনেক বড়মাপের কনসেপ্টের সহজতম ব্যাখা পেয়েছি।