Home / জাতীয় / ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বেক্সিমকোর ওষুধ প্রত্যাহার

ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বেক্সিমকোর ওষুধ প্রত্যাহার

Spread the love

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকালস্ প্রস্তুতকৃত একটি ডায়বেটিসের ওষুধে আমেরিকার ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) “সম্ভাব্য ক্যান্সার উপাদান” খুঁজে পাবার পর ওষুধটি বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশী এই কোম্পানি মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট নামের ওষুধ ২০১৯ এর জুনে উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করে আটটি ‘লটে’। ওষুধ সরবরাহ করা হয় আমেরিকান কোম্পানি বেশোর ফার্মাসিউটিকালস্ এর কাছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকালস্ দেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক গ্রূপগুলোর এর মধ্যে অন্যতম বেক্সিমকো গ্রূপের অধীনস্ত। বেক্সিমকো গ্রূপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব সালমান ফজলুর রহমান একজন সংসদ সদস্য এবং বেসরকারি বাণিজ্য সেক্টর ও বিনিয়োগ বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তার পদমর্যাদা একজন মন্ত্রীর সমতুল্য। গ্রূপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালকও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ, নাজমুল হাসান।

এফডিএ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃততে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সংস্থাটি বেক্সিমকোর রফতানিকৃত আটটি লট এর মধ্য থেকে ওষুধ পরীক্ষা করে তাতে এন-নাইট্রোসোডিমেথালমিন — যা এনডিএমএ হিসেবে পরিচিত — তার উপস্থিতি পেয়েছে। এ রাসায়নিক উপাদান ওষুধটিতে “দৈনিক গ্রহণযোগ্য সীমার অতিরিক্ত রয়েছে” বলে সরকারি মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি পেয়েছে; ফলে এই ওষুধ “বাজার থেকে ফিরিয়ে আনার সুপারিশ” করেছে এফডিএ।

এনডিএমএ মানুষের জন্য সম্ভাব্য কারসিনোজেন (যা মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে) হিসেবে চিহ্নিত। উপাদানটি পরিবেশদূষণকারী হিসেবেও পরিচিত।

এর উপস্থিতি আছে জানবার পর বেশোর ফার্মাসিউটিকালস্ আরো পরীক্ষা চালায় এবং আটটি লটের মধ্যে অন্য আরেকটিতেও এনডিএমএ শনাক্ত করে। এর প্রেক্ষিতে আমেরিকান কোম্পানিটি দুটি লটের ওষুধই বাজার থেকে ফিরিয়ে নেবার (রিকল) করার জন্য সম্মত হয়।

এফডিএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ডায়বেটিসের ট্যাবলেট থেকে কোনো “ক্ষতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে বেশোর বা বেক্সিমকো কেউই কোনো রিপোর্ট পায়নি।”

এ বছরের শুরুতে এফডিএ আরো ছয়টি আমেরিকান কম্পানির মেটফরমিন সম্বলিত ওষুধ বাজার থেকে ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করে।

বেক্সিমকো বেশোরের জন্য আরো বেশ কিছু ওষুধ প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্ত চাপের ওষুধ কার্ভিডিলল এবং ন্যাডোলল, অ্যান্টিহিস্টামিন প্রজাতির ওষুধ, সিপ্রোহেপ্টাডিন, এবং পেশী শিথিলকারী মেথোকারবামল।

৪ মে ২০২০ এ বাংলাদেশ সরকারের ডিরেক্টর জেনারেল অফ ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকালস্ কে ভাইরাস নাশক ওষুধ রেমডেসিভির-৪ ইনজেকশন (‘বেমসিভির’ ব্র্যান্ড নামের অধীনে) উৎপাদনের জন্য জরুরি অনুমোদন প্রদান করে। এতে বেক্সিমকো বিশ্বে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য রেমডেসিভির এর জেনেরিক রূপ উৎপাদনকারী প্রথম কোম্পানি হবার সুযোগ পায়।

বাংলাদেশী এই ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (এসআইআই) এর সাথেও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যার অধীনে এসআইআই উদ্ভাবিত কোভিড-১৯এর যেকোন টিকা আমদানি ও বিপণনের একচ্ছত্র অধিকার প্রাপ্ত হবে বেক্সিমকো। আস্ট্রাজেনেকা, গেইটস্ ফাউন্ডেশন এবং গ্যাভি ভ্যাকসিন এলায়েন্স এর সাথে এসআইআই এর পার্টনারশিপ রয়েছে, যার ফলে ভারতীয় এই কোম্পানি সমগ্র বিশ্বে সরবরাহের জন্য কোভিড-১৯ এর ১০০ কোটি টিকা উৎপাদন করবে ।

বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে নেত্র নিউজ কে বলা হয়েছে, “রোগীর নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।” বেক্সিমকো বলেছে, “আমাদের ওষুধ তৈরির সূত্রে বা প্রস্তুত প্রণালী থেকে এই সমস্যার উদ্ভব হয় নি বলে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন।” বরং মূল সমস্যা মেটফরমিন এপিআই তে ছিল, যা তারা অন্য একটি প্রস্তুতকারী থেকে ক্রয় করে থাকে। বেক্সিমকো আরো জানায় তারা বর্তমানে ভিন্ন একটি প্রস্তুতকারক এর কাছ থেকে মেটফরমিন এপিআই কিনছে, এবং এনডিএমএ’র মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখছে।

“বিশ্বের যেকোন স্থানের যেকোনো পণ্যের বিষয়ে এফডিএ’র নীতিমালা নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ অবগত রয়েছি এবং তাদের সুপারিশ ও নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করে থাকি।”